অবশেষে হেড কোচ ডমিঙ্গোর বিপক্ষে মুখ খুললেন খালেদ মাহমুদ সুজন

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর ক্রিকেটীয় দর্শন বাংলাদেশের ‘ব্র্যান্ড অব ক্রিকেটের’ সঙ্গে মিলছে না বলে মন্তব্য করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বিশেষ করে টি-২০ এর ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজারের মতে, টি-টোয়েন্টিতে খেলোয়াড়দের মানসিকতা বদলের জন্যই নতুন পরামর্শক আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টি-২০ ক্রিকেটে বলার

মতো কখনোই কিছু করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের কাছেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারে বাংলাদেশ। আর কদিন পরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ

খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দলের অবস্থা বেশ নাজুক। এ কারণে ক্রিকেটারদের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্যই ভারতীয় কোচ শ্রীধরন শ্রীরামকে টেকনিক্যাল কনসাল্টেন্ট হিসেবে আনতে

যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সেটা অবশ্য আগেই নিশ্চিত করেছেন। ২০ আগস্ট এমনটা জানালেন সুজনও। তিনি বলেন, ‘দেখেন, প্রত্যেকটা মানুষেরই আলাদা আলাদা

ফিলোসফি (দর্শন) থাকে। আমার ফিলোসফি বা আপনার ফিলোসফি সবই আলাদা। প্রত্যেক কোচের ফিলোসফি আলাদা। ওর (ডমিঙ্গো) ফিলসোফি যেটা সেটা হয়তো আমাদের ‘ব্র্যান্ড অব

ক্রিকেটে’র সাথে মানাচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে। এটা তো আর কথায় হবে না। আমরা পারফরম্যান্স করতে পারছি না টি-টোয়েন্টিতে।’ ‘একটা আলাদা ফিলোসফি আসলে অসুবিধা টা কী। সেটা

যদি দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো হয় তাহলে সেটা আমাদের অবশ্যই নিতে হবে। সেটা থেকে বের হয়ে আসার চিন্তা এশিয়া কাপে আমরা করছি। দেখা যাক সেটা কী হয়। কতটুকু কাজ করে।

আমার মনে হয় এই ফরম্যাটে আমরা অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে পারি। যেটা আমরা ওয়ানডেতে করতে পারি না।’ এদিকে গত ১৮ আগস্ট থেকে গুঞ্জন ছিল, আসন্ন এশিয়া কাপকে সামনে

রেখে শ্রীধরন শ্রীরামকে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত জানা যায়, এই ভারতীয়কে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিসিবির সঙ্গে আলোচনার জন্য ২১ আগস্ট দুপুরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন

করা শ্রীরামের। তার সঙ্গে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি করা হবে বলে নিশ্চিত করেন বিসিবি সভাপতি। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের খোলনলচে পাল্টে দেবেন শ্রীরাম, এমনটা

বিশ্বাস সুজনেরও, ‘শ্রীরাম যখন আসবে, যেহেতু সে টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে অনেক বেশি কাজ করে, ওর কিছু ইনপুটস তো থাকবেই। ও যেহেতু এশিয়ারই, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিল আছে। কথা

বার্তা বা যোগাযোগ করতেও সহজ হবে। ও আসার পর অবশ্যই একটা পরিবর্তন আমরা পাবো।’ বেশ কয়েক বছর ধরে কোচ হিসেবে কাজ করছেন শ্রীরাম। জাতীয় দল, বয়স ভিত্তিক কিংবা

ফ্র্যাঞ্চাইজি সব জায়গাতেই কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। অস্ট্রেলিয়া দলে স্পিন কোচ হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কিছু দিন। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের ভারত সফরে কোচিং

প্যানেলে ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরেও ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে অ্যাশেজ সিরিজেও অস্ট্রেলিয়ার কোচিং প্যানেলের অন্যতম সদস্য করা হয়েছিল তাকে। ২০১৯

সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং ও স্পিন কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন শ্রীরাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট খেলারও অভিজ্ঞতা আছে শ্রীরামের। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত

ভারত জাতীয় দলে খেলেছেন তিনি। এই সময়ে ভারতের জার্সিতে ৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। তামিলনাড়ূর এ ক্রিকেটারের ঘরোয়া রেকর্ডও খুবই সমৃদ্ধ। রঞ্জি ট্রফিতে এক মৌসুমে রেকর্ড ১০৭৫ রান করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *