অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস করলো জিম্বাবুয়ের

আগের দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচে ৯৯ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের হার, পরের ম্যাচে ২১২ বল থাকতে হারতে হয় ৮ উইকেটে।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়া সেই জিম্বাবুয়ে আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অ্যারন ফিঞ্চের দলকে ১৪১ রানে অলআউট করে তুলে নিয়েছে ৩ উইকেটের স্মরণীয় জয়।

১৪ বারের চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়। আর দুই দলের ৩৯ বছরের লড়াইয়ের ইতিহাসে ৩৩ ওয়ানডেতে এটি তৃতীয় জয় জিম্বাবুয়ের, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৪ সালে হারারেতে। যেকোনো সংস্করণ মিলিয়ে আট বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় পেল জিম্বাবুয়ে।

আজ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিম্বাবুয়ের প্রথম জয়টি এল টাউন্সভিলের রিভারওয়ে স্টেডিয়ামে। আগের দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া আজ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে। ডেভিড ওয়ার্নারের ৯৬ বলে ৯৪ রানের ইনিংসের পরও অস্ট্রেলিয়া আটকে যায় ১৪১ রানে। জিম্বাবুয়ের স্পিনার রায়ান বার্ল মাত্র ১৮ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট তুলে নেন। তাঁর বোলিং ফিগার ৩-০-১০-৫!

তবে জিম্বাবুয়ের জন্য এই রানকেও একপর্যায়ে কঠিন বানিয়ে ফেলেছিলেন জস হ্যাজলউডরা। ৭৭ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে পাঠান জিম্বাবুয়ের প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু রেজিস চাকাভার দলের জন্য লক্ষ্যটা ছিল এমন—বল হাতে আছে প্রচুর, কেবল টিকে থাকা দরকার।

এ ক্ষেত্রে অধিনায়ক নিজেই দিলেন নেতৃত্ব। ছয় নম্বরে নামা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ষষ্ঠ উইকেটে টনি মুনইয়ঙ্গা আর সপ্তম উইকেটে রায়ান বার্লকে নিয়ে শেষের পথটা দেখেশুনে পাড়ি দেন। চাকাভা অপরাজিত থাকেন ৭২ বলে ৩৭ রান করে, জিম্বাবুয়ের ইনিংসে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি খেলে যান ৪৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংস।

জিম্বাবুয়ে যে রানের নাগাল ৩৯ ওভারে গিয়ে পায়, অস্ট্রেলিয়া তা সংগ্রহ করেছিল ৩১ ওভারে। ফিঞ্চের দলের ইনিংসের পুরোটাই অবশ্য ওয়ার্নারময়। প্রথম ৯ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেটের পতন বা ৭২ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেটের পতন—কোনো বিপর্যয়ই ছুঁয়ে যায়নি তাঁর ব্যাট। এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন ওয়ানডে মেজাজেই। যে কারণে দলের ৬৪ রানের মধ্যেই তাঁর ফিফটি, শেষ পর্যন্ত তোলা ১৪১ রানের মধ্যে ৯৪।

ওয়ানডে মেজাজেই। যে কারণে দলের ৬৪ রানের মধ্যেই তাঁর ফিফটি, শেষ পর্যন্ত তোলা ১৪১ রানের মধ্যে ৯৪। শতাংশের হিসাবে ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের মধ্যে অপরাজিত ১৮৯ রান করেছিলেন স্যার ভিভ রিচার্ডস, যা মোট রানের ৬৯.৪৮ শতাংশ। ওয়ার্নারের আজকের রান তাঁর দলের ৬৬.৬৬।

তবে ওয়ার্নার নন, অস্ট্রেলিয়ান ইনিংসের মূল আলোটা কেড়ে নেন জিম্বাবুইয়ান স্পিনার রায়ান বার্ল, তাঁর ওপর ভর করে দিন শেষে স্মরণীয় জয়ও পেল দল। ১৯৯২ থেকে ২০২২—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩০ বছরের সফরে যা এই প্রথম জয় জিম্বাবুয়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *