এবার সাব্বিরকে দলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে চটে যান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু

এশিয়া কাপের দলে কেন পেসার শরিফুল ইসলাম নেই? এমন প্রশ্নে ভরা সংবাদ সম্মেলনে চটে যান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তার কড়া জবাব, ‘শরিফুল কেন নেই আপনি আমাকে

এভাবে প্রশ্ন করতে পারেন না।’ চারদিক থেকে নির্বাচকের কাছে ছুটতে আসা প্রশ্নবাণে হারিয়ে যায় শরিফুলকে নিয়ে করা এই প্রশ্ন। তবে ঘোষিত দলে সবচেয়ে বড় চমক সাব্বির রহমান। দল থেকে

বাদ পড়ার পর বলার মতো কোনো পারফরম্যান্স না করেই ফিরেছেন তিনি। কোন বিবেচনায় সাব্বির দলে? শনিবার বিকেলে দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে সাব্বিরকে নিয়ে উঠেছিল নানা

প্রশ্ন ছিল। প্রধান নির্বাচক উত্তরে যা বুঝিয়েছেন তাতে স্পষ্ট অভিজ্ঞতার জোরে আরব আমিরাতের বিমানে উঠবেন সাব্বির। যিনি এখন আছেন উইন্ডিজে, ওয়ানডে খেলবেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে।

প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘সাব্বির অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। টি-টোয়েন্টিতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ওর খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই দলে নেয়া হয়েছে। আমরা টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সঙ্গে

আলোচনা করেই সাব্বিরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় কিছু খেলোয়াড়কে এভাবে চিন্তা করতে হয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখতে হয়।’ সাব্বিরের টিকে যাওয়ার অন্যতম কারণ

ইনজুরিও। ইয়াসির আলী নেই। তিনি থাকলে হয়তো এই সুযোগ মিলতো না। প্রধান নির্বাচকও জানিয়েছেন ইনজুরির সমস্যার কথাও। তবে তার প্রত্যাশা হঠাৎ পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাবেন

সাব্বির। জাতীয় দলের হয়ে সাব্বির সবশেষ খেলেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, ত্রিদেশীয় সিরিজে। দেশের মাটিতে এই টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর আড়ালে পড়ে যান এই তারকা ক্রিকেটার। এরপর

ব্যাট হাতে ঠিকঠাক পারফর্ম করতে পারেননি। মাঝে খেলে বেড়িয়েছেন পাড়ার ক্রিকেটও। বাদ পড়ার পর দুই বিপিএলে তিনি করেন যথাক্রমে ২০৪ ও ১০৯ রান। শেষ বিপিএলে দলের বাইরেও

থাকতে হয়েছিল তাকে। সবশেষে ডিপিএলে রান পেয়েছেন, তবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স নেই। ১টি করে সেঞ্চুরি আর হাফ সেঞ্চুরিতে ১৫ ম্যাচে রান ৫১৫। বাদ পড়ার পর এবারের ডিপিএলেই

মূলত কিছুটা রান করেন তিনি। যেটির কথা প্রধান নির্বাচক নিজেও উল্লেখ করেন। তবে জাতীয় দলে সুযোগের জন্য এমন পারফম্যান্স মানদণ্ড হতে পারে না কখনোই। তাই বারবার প্রশ্নে ছুটে

গেছে সাব্বিরের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে। নির্বাচকও সেসব প্রশ্নের দায়সারা উত্তর দিয়েছেন। এশিয়া কাপের ১৭ সদস্যের দলে সাব্বির ছাড়াও ফেরেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। নতুন মুখ

ইবাদত হোসেন চৌধুরি। শরিফুল ছাড়া বাদ পড়েছেন মুনিম শাহরিয়ার, নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিক উইন্ডিজ সফর থেকে ছুটি নিয়েছিলেন, আর জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাকে বিশ্রামে রাখে টিম

ম্যানেজম্যান্ট। মুনিম শাহরিয়ার প্রাপ্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ৫ ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ৩৪ রান। জিম্বাবুয়ে সফরে তার পারফম্যান্স ছিল দৃষ্টিকটু। নাজমুল হোসেন শান্তর টি-টোয়েন্টি

পারফরম্যান্স একেবারেই হতশ্রী। তিন ম্যাচে ১, ৩৭ ও ১৯* রান করেন। টি-টোয়েন্টি চাহিদা পূরণ করতে পারছিলেন না। তাই তার বাদ পড়া অনুমেয় ছিল। এদিকে জিম্বাবুয়েতে খরুচে বোলিংয়ের কারণে

দলে জায়গা হারিয়েছেন শরিফুল। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ রান দিয়েছিলেন, এরপর আর একাদশে জায়গা হয়নি। তিন ওয়ানডেতে যথাক্রমে রান দেন ৩৭, ৫৭ ও ৭৭। হারারেতে এলোমেলো বোলিংয়ের

কারণে তার উপর আস্থা রাখেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ইবাদত। জিম্বাবুয়েতে শেষ ওয়ানডতে তার অভিষেক হয়েছিল। সেই ম্যাচেই পরপর দুই বলে ২ উইকেট

নিয়েছিলেন। সবশেষ বিপিএলেও ইবাদত ভালো বোলিং করেছিলেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রামে রাখার পর অনেকেই তাদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ ধরে

নিয়েছিলেন। কিন্তু টিম ম্যানেজম্যান্ট সে পথে হাঁটেননি। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য দুজনের পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাই দেখা গিয়েছিল। তবুও আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট,

আস্থা রেখেছেন নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, দল গঠনে নির্বাচকরা কি বিবেচনা করেন? সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি কিংবা মাহমুদউল্লাহদের থেকে যাওয়া বলে পারফরম্যান্স

সবকিছু নয়। আবার শরিফুল কাটা পড়েন পারফরম্যান্সের কারণেই। প্রশ্নের তীর দিকেই…কোন নীতিতে হাঁটছেন নির্বাচকরা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *