‘এমন বিদায় কষ্টকর, মুশফিক ভাইকে ফিরে আসতেই হবে বললেন,সাজেদুর রহমান

ঢাকা: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে রান নেই অনেক দিন ধরে। পুরো ক্যারিয়ারের ছবিও খুব উজ্জ্বল নয়। বাংলাদেশ দলে তার জায়গা নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সময়ের হিসাবে

সবচেয়ে বেশি ১৫ বছর ২৮১ দিনের ক্যারিয়ার মুশফিকের। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ওভারের ক্রিকেটে পা রাখেন মুশফিক। টি-টোয়েন্টির আঙ্গিনায় ১৬ বছর কাটিয়েছেন এই বর্ষীয়ান ক্রিকেটার, খেলেছেন ১০২টি ম্যাচ।

বাংলাদেশের হয়ে ১০০-এর বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা ৩ ক্রিকেটারের একজন মুশফিক।দেড় যুগ ধরে বাংলার ক্রিকেটকে যিনি মেধা আর পারফরম্যান্স দিয়ে এতোটা সম্বৃদ্ধ করেছেন তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছেন ভক্তদের অনেকেই। নতুনদের যাচাইয়ের সুযোগ মিলবে;

পাশাপাশি মুশফিকের কাছ থেকে ওয়ানডে আর টেস্টে আরও ভালো কিছুর প্রত্যাশা তাদের।তবে বেশিরভাগ ভক্ত আবার মুশফিকের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। অনেকের প্রত্যাশা হতাশা থেকে সিদ্ধান্ত বদলে হয়তো আবারও এই ফরম্যাটে ফিরবেন মুশফিক।

সেই আশায় প্রতিকী অনশন শুরু করেছেন মুশফিকের ভক্তরা।মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটে অনশন করছেন তারা। তাদের একটাই দাবি, মুশফিক নিজের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসবেন। মুশফিকের ফেরার দাবিতে অনশনকারী কাজী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়

কতদিন পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাবেন এমন প্রশ্নে সোনালীনিউজকে কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, এটা আসলে প্রতিকী অনশন, কতদিন পর্যন্ত চালিয়ে যাব সেটা এখনো নিশ্চিত নই। তবে আজকে আমরা বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনশন করেছি। আগামীকাল ১২টা থেকে অনশন শুরু করার চিন্তা-ভাবনা আছে।

সাজেদুর রহমান: এমন বিদায় কষ্টকর, মুশফিক ভাইকে ফিরে আসতেই হবে। বিষয়টি মুশফিক ভাইয়ের নজরে এসেছে বলে জানতে পেরেছি। আমরাও চেষ্টা করছি, বিষয়টাকে যেন তিনি ভালোভাবে বিবেচনায় নেন। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।

সাজেদুর রহমান: মুশফিক ভাই আসলে অনেক স্ট্রিক্ট মানুষ। আমাদের এই প্রতিকী অনশন আসলে সফল হবে কিনা? সেটা বলতে পারছিনা। তবে ভক্ত হিসেবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। দেখা যাক কি হয়।

সাজেদুর রহমান: এটা আসলে মুশফিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ভিন্ন কোনো পদক্ষেপ নিলেই যে মুশফিক তার সিদ্ধান্ত বদলাবেন বিষয়টা তেমন নয়। যদি তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন সেটার জন্য আমাদের প্রতিকী অনশন কিংবা বিসিবির হস্তক্ষেপই যথেষ্ট। অন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আসলে কোনো লাভও হবে না

সাজেদুর রহমান: মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে তো সবসময়ই থাকে। যদি সুযোগ পাই তাহলে ভক্তরা মিলে তাকে অনুরোধ জানাব। আর আমরা প্রথমে মুশফিকের বাসার সামনেই অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনি ঝামেলা আছে। তাই আমরা সেখান থেকে সরে এসে মিরপুরে প্রতিকী অনশন পালন করি।

সাজেদুর রহমান: মুশফিক বাংলাদেশের সেরা একজন ক্রিকেটার। তার ভক্ত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। প্রত্যেকেরই দাবি মুশফিক অন্ততপক্ষে সম্মানজনক ভাবে বিদায় নিক। যারা আমরা অনশন পালন করছি প্রত্যেকেরই আসলে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আছে। এরপরও আমাদের এ কর্মসূচিতে অনেকে এসে যুক্ত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *