এশিয়া কাপ : নতুন অধিনায়ক, নতুন বাংলাদেশ! নতুন অধ্যায় শুরু

বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়ানডে ফরম্যাটে সমীহ জাগানিয়া দল হলেও টেস্ট এবং টি-২০তে বাংলাদেশ দল এখনো বেশ দূর্বল। টি-টোয়েন্টির খেলার ধরনের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

এরমধ্যে টাইগারদের সামনে আগামী দুই মাস সব টি-টোয়েন্টির খেলা। আসন্ন এশিয়া কাপ দিয়ে শুরুর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পাক্সিতানের সাথে ট্রাই নেশন সিরিজ। এরপরই টি-টোয়েন্টি

বিশ্বকাপে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির পর আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে এশিয়া কাপ থেকেই টি-টোয়েন্টিতে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ক্রিকেট

বোর্ডের। সে জন্য এশিয়া কাপের আগে নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। এছাড়াও ক্রিকেটারদের পাওয়ার হিটিং অ্যাবিলিটি বাড়ানোর পরিকল্পনায় কাজ শুরু

করেছে বোর্ড। ক্রিকেটাররাও সানন্দে কোচদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও আজ (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে এসে জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টির

অতীতের গ্লানি ভুলে এশিয়া কাপ থেকেই বদলে যাওয়া এক দল দেখতে চাইছেন তারা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৩১ ম্যাচে বাংলাদেশে ৪৫ জয়ের বিনিময়ে হেরেছে ৮৩ ম্যাচে। গত এক

বছরের হিসাবে যা আরও বাজে। গত বিশ্বকাপের পর থেকে ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের ঘটনাও রয়েছে। ভালো

ফলাফলের জন্য তাই দলের আমূল পরিবর্তনের আশা বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসানের। গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমরা আসলে টি-টোয়েন্টিতে অত

ভালো দল না। কে প্রতিপক্ষ এটা বড় কথা না, আমাদের দলটা আসলে অত শক্তিশালী না। এই জন্য আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, টোটাল চিন্তাধারা মাইন্ডসেট হুট করে চেঞ্জ করে ফেলতে চাইছি।

আর সেটা এই এশিয়া কাপ থেকে। আমরা দেখতে চাচ্ছি, নতুন করে ফ্রেশ স্টার্ট করা যায় কিনা। আসলে প্লেয়ার যে আমাদের নাই, এমন না। প্লেয়ার আছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টির জন্য আমাদের

মাইন্ডসেটটা একটা বদলাতে হবে। যদি আমরা জিততে চাই, ভালো করতে চাই তাহলে টোটাল মাইন্ডসেট বদলাতে হবে। এই ফরম্যাটে পাওয়ার হিটিংয়ের কোনো বিকল্প নাই। আমরা এখানে ১৩০-৪০

করে হয়ত একটা ম্যাচ জিতে যাব একদিন। তবে এটা হতে পারে না। আমাদের ১৮০-২০০ করতে হবে। এটা আমাদের সবসময় মাথায় রেখেই খেলতে হবে। এখন আমাদের যে মাইন্ডসেট চলছে,

সে মাইন্ডসেটে অত রান করার মতো লক্ষণ আমরা দেখছি না। এটা খেলার মধ্যেও আমরা দেখতে পাই না। সেজন্য এটাকে কী করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। এশিয়া কাপ

কিন্তু হালকা কিছু না। বিশ্বকাপের পর এটা ধরা যায়। গত বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স খুব হতাশার ছিল। হুট করে আমরা সেখান থেকে বেরুতে পারব কিনা জানি না। তবে আমাদের মাথায়

যদি ওইরকম চিন্তা থাকে যে, যদি আমরা উন্নতি করতে চাই, নতুন কিছু করতে চাই। এই চিন্তাটা যদি আমরা এশিয়া কাপ থেকে শুরু না করি তবে বিশ্বকাপে গেলে তো আমরা খারাপ করবো।

সেজন্য আমরা একটা আমূল পরিবর্তন; মাইন্ডসেট থেকে শুরু করে সবকিছু একটা নতুন চিন্তা-ভাবনা করতে চাই।’ ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে এবারের এশিয়া কাপ। ৩০ আগস্ট আফগানিস্তানের

বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। আর সেই ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অতীতের গ্লানি এবং জরা কাটিয়ে নতুন শুরু করবে বাংলাদেশ, এই আশা বিসিবি বসের মতো সকল ভক্তেরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *