চরম দুঃসংবাদঃ ৯ ফাউলের শিকার হয়ে নেইমারের চোট, বিশাল দুশ্চিন্তায় ব্রাজিল

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুটা হয়েছে রাজসিক। গোলে অবদান রাখতে পারেননি, তবে দলটির এমন জয়ে বড় ভূমিকাই রেখেছেন নেইমার। যার প্রমাণ মিলবে পরিসংখ্যানে চোখ বোলালে। সার্বিয়া ম্যাচে ৯ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন ব্রাজিলের এই

মহাতারকা। শেষমেশ মাঠ ছেড়েছেন ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট নিয়ে। ২-০ গোলের দারুণ জয়ের দিনেও যা বড় দুশ্চিন্তাই উপহার দিয়েছে ব্রাজিল কোচ তিতেকে। লুসাইল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটা নেইমার খেলেছেন শুরু থেকেই। পুরো ম্যাচে যে ছড়ি

ঘুরিয়েছে সেলেসাওরা, তাতে সিংহভাগ কৃতিত্ব ছিল তারই। তবে এর বিড়ম্বনাও আছে বৈকি! ব্রাজিল তারকাকে এই ম্যাচে ফাউলই করা হয়েছে ৯ বার। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে এর চেয়ে ফাউলের শিকার হননি আর কেউই। পিএসজি তারকা পা এমন ধকল সইতে

পারেনি শেষমেশ। ডানপায়ের অ্যাঙ্কেলে চোট নিয়ে তাকে ছাড়তে হয়েছে মাঠ। ম্যাচের ৮০ মিনিটে অ্যান্টনিকে মাঠে এনে তাকে তুলে নেন কোচ তিতে। তিনি যখন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন পুরো ব্রাজিল দল তার চারপাশে ঘিরে ধরেছিল। সবার

চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজই বলে দিচ্ছিল, চোটটা বড় দুশ্চিন্তাতেই ফেলে দিয়েছে সবাইকে। ম্যাচ শেষে কোচ তিতে এলেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে দাপুটে জয়ের তৃপ্তির চেয়ে দুশ্চিন্তাই ভেসে উঠছিল তার চোখে মুখে। নেইমারের চোট কতটা গভীর,

বিশ্বকাপে তার খেলায় কোনো সমস্যা হবে কি না, সেটা যে এখনো অজানা তারও! এরপর অবশ্য ব্রাজিল দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছেন, নেইমারের পা মচকেছে। তবে এই চোট কত গভীর, সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ২৪ থেকে

৪৮ ঘণ্টা। নেইমারের পায়ের অবস্থা দেখা গেছে ছবিতে, সেখানে দেখা যাচ্ছিল, পায়ের গোড়ালি ফুলে গেছে তার। মাঠ ছাড়ার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়ছেন তিনি। তাতে চোটটা গভীর বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে নেইমারের

চোটের আগ পর্যন্ত ব্রাজিল যা করেছে, তাতে কোচ তিতের তৃপ্তই হওয়ার কথা। সার্বিয়ার চোয়ালবদ্ধ রক্ষণ দলটা ভেঙেছে রিচার্লিসনের দুই গোলে। প্রথমটা সহজ ছিল, দারুণ পজিশনিং সেন্স কাজে লাগিয়ে রিচার্লিসন দাঁড়িয়ে ছিলেন গোলরক্ষকের

সামনে, অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে। ভিনিসিয়াসের শটটা গোলরক্ষক ভানজা মিলিঙ্কোভিচ-স্যাভিচ ঠেকিয়ে দিলেও রিচার্লিসনের শটটা ঠেকাতে পারেননি। দ্বিতীয় গোলে তিনি যা করেছেন, তা গোল অফ দ্য টুর্নামেন্টেরই দাবিদার। ভিনিসিয়াসের পাস আয়ত্বে

নিয়ে দারুণ এক ব্যাকভলিতে করেছেন গোলটা। ব্রাজিলের জয়টাও নিশ্চিত হয়ে গেছে তাতে। ওদিকে ব্রাজিলের রক্ষণও খেলেছে দুর্দান্ত। সার্বদের একটিও শট নিতে দেয়নি গোলে। এই জয়ের ফলে ব্রাজিল ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হয়েই দ্বিতীয় ম্যাচদিবসে পা

রাখছে। এমন পারফর্ম্যান্সের পর কোচ তিতের তৃপ্তই হওয়ার কথা। কিন্তু নেইমারের চোট আর তা হতে দিলো কই? আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ব্রাজিল মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। সেই ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া যাবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত এক দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *