দল নির্বাচনে তামিমের সাথে বিসিবির চরম ঝগড়া, অসন্তোষ বাড়ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলে! অপরাধির তালিকায় অধিনায়ক!

সব দলেই অধিনায়কের পছন্দের খেলোয়াড় নেওয়া হয়। সেই নেওয়ার পেছনে যৌক্তিকতা থাকে। সাধারণত সেরা বোলার বা ব্যাটারকে রেখে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির কাউকে

সুযোগ দেওয়া হয় না। ভালো অধিনায়ক তেমন অযৌক্তিক দাবি করেনও না। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্নিষ্টরা। তামিম

ইকবাল অলিখিত অধিনায়ক কোটায় নাসুম আহমেদের জায়গায় তাইজুল ইসলামকে নিয়েছেন। মিরপুরে গুঞ্জন তাইজুলের সঙ্গে তামিমের সম্পর্ক বেশ ভালো, যেটা প্রভাবক হিসেবে কাজ

করে থাকতে পারে। গতকাল জানা গেল, অধিনায়ক মিডলঅর্ডার ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বিকেও দলে নিতে চান। এ নিয়ে জাতীয় দল সংশ্নিষ্টদের পাশাপাশি নির্বাচকদের মধ্যে অসন্তোষ

কাজ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, অধিনায়কের কোটা বাড়তে থাকলে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হবে। নির্বাচকরা তাই বিকল্প ওপেনার হিসেবে জয়কে বেছে নিতে চান।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নাসুমের জায়গায় তাইজুলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল

আবেদীন নান্নুর কাছে তাইজুলের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথকে ঢাল হিসেবে সামনে এনেছিলেন। নান্নুর ব্যাখ্যা ছিল, নাসুমের চেয়ে

আক্রমণাত্মক বোলিং করেন তাইজুল। কিন্তু বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এক সাক্ষাৎকারে গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন। তিনি জানান, তামিমের পছন্দে তাইজুলকে দলে

নিয়েছেন নির্বাচকরা। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচক হিসেবে ভেতরের কথা বলতে পারি না। বলা ঠিকও না। তাইজুলকে

নেওয়ার বিষয়টি তাই অন্যভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’ বিসিবি সভাপতি সত্য ফাঁস করে দেওয়ায় প্রধান নির্বাচক কিছুটা চাপমুক্ত। ১৫তম সদস্য হিসেবে তামিমের পছন্দে রাব্বিকে নেওয়া হবে

কিনা জানতে চাওয়া হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি নান্নু। তাঁর ইচ্ছে যোগ্য ক্রিকেটারকে সুযোগ করে দেওয়া। ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেক তাইজুলের। গত সাড়ে ৮ বছরে ১২টি

ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২০ উইকেট শিকার তাঁর ঝুলিতে। ২০২০ সালের পর লম্বা সময় ওয়ানডে দলে ছিলেন না বাঁহাতি এ স্পিনার। গত বছর উইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে একদিনের ক্রিকেটে

প্রত্যাবর্তন। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের যে ম্যাচে খেলেছিলেন, সেখানে ৫ উইকেট রয়েছে তাঁর। জিম্বাবুয়ে সফরে দুই ম্যাচ খেলে নেন ৩ উইকেট। বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে

মধ্যাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে ছিল ৩ উইকেট তাঁর। যে তাইজুলকে সীমিত ওভারের বোলার মনে করেন না কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেকে তাঁকেই পেলেন স্কোয়াডে।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ শেষে সিডনিতে বাঁহাতি এ স্পিনারকে নিয়ে যেভাবে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন কোচ, এবার হোম সিরিজ শেষে তেমন কিছু না ঘটলেই ভালো। একইভাবে ছন্দহীন

ইয়াসির রাব্বির ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে অধিনায়ক কোটায় সুযোগ দেওয়া হলে। এ ছাড়া মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসানদের ভিড়ে

মিডলঅর্ডার ব্যাটার রাব্বির জায়গাও নেই। সেখানে তৌহিদ হৃদয়কেও নেওয়া হয়েছে মিডলঅর্ডার ব্যাটার হিসেবে। বিকল্প ব্যাটারের ঘাটতি কেবল ওপেনিংয়ে। জয়কে স্কোয়াডে নেওয়ার

চিন্তা সে কারণেই। তামিমের প্রস্তাব ভিন্ন হওয়ায় গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল এটি। কেউ কেউ ঠাট্টাচ্ছলে বলাবলি করছিলেন, ‘ওপেনিংয়ে তামিম

খাল কেটে কুমির আনতে চান না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *