পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব লঙ্কানদের

চলমান এশিয়া কাপে টস জেতা মানে ম্যাচ জেতা, এইটা যেন অলিখিত নিয়ম হয়েই দাঁড়িয়েছিল। তবে, মেগা ফাইনালে এসে সেই নিয়মটাই যেন ভুল প্রমাণ করল শ্রীলঙ্কা। দুবাইয়ে এদিন টস জিতে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম।

ব্যাটিংয়ে শুরুটা লঙ্কানদের পক্ষে কথা না বললেও, ভানুকা রাজাপাকসের ব্যাটে শেষটা ছিল শ্রীলঙ্কারই। রাজাপাকসের আনবিটেন ৭১ রানে ভর করে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ১৭০ রান। দুবাইয়ের এই মাঠে এই রান তাড়া পাকিস্তানের জন্য ছিল না অসম্ভব। তবে সেই অসম্ভব কাজটাই বল হাতে করে দেখিয়েছেন হাসারাঙ্গা-মাধুশানরা। শেষ পর্যন্ত ১৪৭

রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। ২৩ রানের জয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে শ্রীলঙ্কা। ১৭১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের এদিন শুরুটা হতে পারত দুর্দান্ত। বড় ম্যারচে চাপ সামলাতে না পেরে, ইনিংসের প্রথম বলটাতেই নো-ওয়াইডের পসরা সাজিয়ে বসেন লঙ্কান পেসার দিলশান মাধুশাঙ্কা। তাতেই

প্রথম বলে পাকিস্তান পায় সবমিলিয়ে দশ রান। শেষ পর্যন্ত ১১ বলে ওভার শেষ করা মাধুশাঙ্কা খরচ করেন ১৪ রান। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। টাইট বোলিংয়ে লঙ্কান বোলাররা চেপে ধরে পাকিস্তানকে। ধীরগতির শুরুর খেসারত পাকিস্তানকে দিতে হয় ইনিংসের চর্তুথ ওভারে। রানের খোঁজে থাকা বাবরকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের দিনের

প্রথম সাফল্যটা এনে দেন মাধুশান। পরের বলেই ফখর জামানকে ক্লিন বোল্ড করেন এই পেসার। পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতেখার আহমেদ। এই দু’জনের ব্যাটে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ালেও, দু’জনই রান তুলতে করেছেন সংগ্রাম। ৩১ বলে ৩২

রান করা ইফতেখারের বিদায়ে ভাঙে পঞ্চাশোর্ধ রানের এই জোট। এরপরেই লঙ্কান বোলাররা টেনে ধরে ম্যাচের লাগাম। তাতেই দলীয় একশ পার করতেই সাজঘরে ফিরেন মোহাম্মদ নওয়াজ। বাকিদের আসা যাওয়ার মিছিলে সংগ্রামী হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৬১ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হাসারাঙ্গা শুরুতেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ বলে ৫৫ রান করেন এই ওপেনার। এই ওভারেই পরপর দুই বলে তুলে নেন আসিফ আলী ও খুশদিল শাহ’র গুরুত্বপূর্ণ

উইকেটও৷ মাত্র ২ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে ম্যাচটাই নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।এরপরের বাকিটা ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণের। একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার শাদাব খানকে ফিরিয়ে ম্যাচটা নিজেদের দিকেই নিয়ে আসেন থিকসিনা। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ বলে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১৪৭ রানে থামে পাকিস্তানের

ইনিংস৷ শ্রীলঙ্কার পক্ষে মাধুশান নেন ৪টি উইকেট। হাসারাঙ্গার শিকার ৩টি উইকেট। এর আগে টস হেরে ব্যাট করে, নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের সংগ্রহ গড়েছিল শ্রীলঙ্কা ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস খেলেন ভানুকা রাজাপাকসে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা করেন ২১ বলে ৩৬। এছাড়া ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা করেন ২৮ রান। পাকিস্তানের পক্ষে ৩ উইকেট নেন হ্যারিস রউফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *