বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মান নিয়ে মুখ খুললেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন

দলের প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলা, শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ বলে ২৫ কিংবা ৩০ করাটা টি-টোয়েন্টিতে বেশ কার্যকরী। তবে বিপিএলে দেশি ক্রিকেটারদের ব্যাটিংয়ে তেমন কিছু এখন

পর্যন্ত সেভাবে চোখে পড়েনি। হুট করে দু-একটা ইনিংস হলেও সেগুলো খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি। এদিকে ব্যাটারদের শটসের সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের

চোখে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মান কমেছে। বিপিএলের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত চোখে লেগে থাকার মতো সবচেয়ে বেশি টানা তিনটি ইনিংস

খেলেছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের তৌহিদ হৃদয়। রংপুর রাইডার্সের রনি তালুকদার একটি ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাটিং করলেও পরবর্তীতে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যায়

এমন দুটি ইনিংস আছে সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া আরও দু-একটি ছোট ছোট ইনিংস দেখা গেলেও কারও মাঝে ধারাবাহিকতা ছিল না। এবারের আসরে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে রয়েছেন নাসির

হোসেন। বল হাতে ৫ উইকেট নেয়ার সঙ্গে ব্যাট হাতে রান করেছেন দুইশর বেশি। ঢাকা ডমিনেটর্সের অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সের পর সালাহউদ্দিন মন্তব্য করেছেন, নাসিরের

উন্নতি হয়েছে কিনা তিনি জানেন না, তবে দেশের ক্রিকেটারদের মান কমেছে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি তো দেখছি সে (নাসির হোসেন) খুব ভালো অবস্থায় আছে।

আমার কাছে মনে হয় যে নাসিরের উন্নতি হয়েছে কিনা জানি না কিন্তু সবমিলিয়ে আমাদের খেলোয়াড়দের মান কমেছে। আমাদের খেলোয়াড়দের কাছে আমি মনে করি আরও একটু বেশি আশা

করি।’ ‘বিশেষ করে আমাদের স্থানীয় ছেলেদের কাছে, বিশেষ করে আরও ব্যাটিংটা আরও ভালো আশা করতে পারি। কারণ এবছর উইকেট অনেক ভালো, উইকেট অনেকটা ব্যাটিং বান্ধব। এই জায়গাতে

আরও একটু ভালো পারফর্ম করা উচিত আমাদের খেলোয়াড়দের।’ বাংলাদেশের ব্যাটারদের মান কিভাবে কমেছে সেটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সালাহউদ্দিন। বিপিএলের বেশিরভাগ

আসরেই উইকেট থেকে ব্যাটাররা সেভাবে পাননি। তবে নবম আসরে দেখা গেছে ভিন্নতা। মিরপুরের মতো উইকেটও অনায়াসে দেখা গেছে ১৮০-১৯০ রানের পুঁজি। ভালো উইকেট হওয়ায় দেশীয়

ব্যাটারদের কাছে আরও বেশি প্রত্যাশিত ছিল তার। ব্যাটারদের শটসের সীমাবদ্ধতা নিয়েও কথা বলেছেন কুমিল্লার প্রধান কোচ। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় শটসের সীমাবদ্ধতা

এখনও আছে। টি-টোয়েন্টিতে যদি আমরা ভালো খেলতে চাই তাহলে আমাদের শটসের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা টপ অর্ডার আছে তাদের বিপক্ষে যদি কেউ আসে ধরুন, এখন

আমি ব্যাটিং করতে নেমেছি নাসির জানে অফ স্পিন দিলে আমি আউট হয়ে যাবো। এটা শুধু আমি একা জানি না, এটা মনে হয় বাইরে যারা খেলাও দেখে, বাইরের চায়ের দোকানের তারাও জানে যে

এই ব্যাটারটা আসলে কাকে দিয়ে বল করাবে।’ ‘তারমানে আপনার কিছু দূর্বলতা আছে। আমার দুর্বলতা যদি প্রতিপক্ষ জানে, দুনিয়ার সবাই জানে তার মানে আপনার দুর্বলতা রয়েছে গেছে। আপনি

সেটি নিয়ে কাজ করেননি। একটা বছর যাওয়ার পর আরেকটা বছরে আমার যেন সেই দূর্বলতা না থাকে। আমার মনে হয় প্রত্যেকটা ব্যাটারেরই তার শক্তির জায়গার সঙ্গে দুর্বলতা নিয়ে কাজ

করলে তারা হয়তো ভবিষ্যতে আরও ভালো জায়গায় যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *