বাংলাদেশের পরাজয়ে কান্নায় চরম ভেঙ্গে পড়লেন এক ক্ষুদে ভক্ত, ভিডিওসহ

চলতি এশিয়া কাপের আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দেশটিতে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেওয়ায় এশিয়া কাপ সরিয়ে নেয়া হয় আবু ধাবিতে। তবে প্রত্যক্ষভাবে না পারলেও পরোক্ষভাবে এই আসরের আয়োজক শ্রীলঙ্কাই।লঙ্কানদের আশা ছিল

পরোক্ষাভাবে আয়োজক থেকেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরবে লঙ্কানরা। তাদের সেই আশা জিইয়ে রাখল শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারের সমীকরণে পেরে উঠল না বাংলাদেশ।রোমাঞ্চকর জয়ে সুপার ফোর পর্ব নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮ রান। মেহেদির প্রথম বলে আসে লেগ বাই থেকে এক রান। পরের বলে দারুণ শটে চার মেরে দেন আসিথা ফার্নান্দো। তৃতীয় বলে আসে আরও দুই রান। পরে তৃতীয় আম্পায়ার সঙ্কেত দেন ‘নো’ বলের।

জিতে যায় শ্রীলঙ্কা।টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই হলো। যাতে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় হয়ে গেছে টাইগারদের।আর তারই পরিপেক্ষিতে এই হার না মেনে নিতে

পেরে ভেঙ্গে পড়েন এক ক্ষুদে ভক্ত। আর সেই ভিডিওটি ধারন করেছেন ক্রিকফ্রেনজি।বোর্ডে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ। দারুণ সুযোগ ছিল শুরুতেই লঙ্কানদের চেপে ধরার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সুযোগ তৈরি করেছিলেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিনের ওভারের শেষ বলে কুশল মেন্ডিস ড্রাইভ করলে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটা গ্লাভসে পেয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি।

২ রানে জীবন পেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেন কুশল। পঞ্চম ওভারে সাকিবকে দুই ছক্কা আর একটি বাউন্ডারি হাঁকান। ৫ ওভারেই বিনা উইকেটে ৪৪ রান তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা।

ষষ্ঠ ওভারে অভিষিক্ত এবাদত হোসেনকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব। নিজের তৃতীয় বলেই দলকে সাফল্য এনে দেন ডানহাতি এই পেসার। তার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে পাথুম নিশাঙ্কা মিডউইকেটে ক্যাচ দেন মোস্তাফিজকে।

তিন বল পর আরও এক উইকেট। এবার চারিথ আসালাঙ্কাকে (১) মিডঅফে ক্যাচ বানান অভিষিক্ত এবাদত। বিনা উইকেটে ৪৫ থেকে ২ উইকেটে ৪৮ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।

সপ্তম ওভারে কুশল আরেকবার জীবন পান। শেখ মেহেদির বলে উইকেটরক্ষক মুশফিক ক্যাচ নিলে সাজঘরে ফিরছিলেন লঙ্কান এই ব্যাটার। কিন্তু আম্পায়ার তাকে দাঁড়াতে বলেন। ‌‘নো’ বল চেক করে দেখা যায়, ওভারস্টেপিং করেছেন মেহেদি।

পরের ওভারে আবারও এবাদতের আঘাত। এবার গুনাথিলাকা (১১) পুল করলে ফাইন লেগ থেকে প্রায় ২০ মিটার দৌড়ে এসে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তাসকিন।

দুই বল পর তৃতীয়বারের মতো জীবন পান কুশল। এবার তিনি এবাদতকে ‍পুল করলে লেগ দিয়ে বল চলে গিয়েছিল উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে। আবেদনও হয়েছিল।

কিন্তু আম্পায়ার সে আবেদন নাকচ করে দেন। বাংলাদেশি ফিল্ডাররাও বুঝতে পারেননি বল ব্যাটে স্পর্শ লেগেছে কিনা। পরে স্নিকোমিটারে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেই গেছে মুশফিকের হাতে।

নবম ওভারে তাসকিন এসে আউট করেন ভানুকা রাজাপাকসেকে। টাইগার পেসারের শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে থার্ডম্যানে বদলি ফিল্ডার নাইম শেখের ক্যাচ হন রাজাপাকসে (২)।

তাসকিনের করা একাদশতম ওভারে চতুর্থবারের মতো জীবন পান কুশল মেন্ডিস। ননস্ট্রাইকের এন্ডে তিনি অনেকটা বেরিয়ে গেলে থ্রো করেন সাব্বির রহমান। একটুর জন্য স্টাম্প ভাঙেনি।

এতবার জীবন পেয়ে ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন কুশল। পঞ্চম উইকেটে দাসুন শানাকার সঙ্গে ৩৫ বলে ৫৪ রানের জুটিতে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন এই ব্যাটার।

অবশেষে ১৫তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুশলকে। তার স্লোয়ার অফকাটার থার্ডম্যানে তুলে দেন এই ব্যাটার, তাসকিন নেন আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ। ৩৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় কুশলের ইনিংসটি ছিল ৬০ রানের।

পরের ওভারে তাসকিনের আঘাত। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (২) জায়গা করে কভারের ওপর দিয়ে মারতে যান, হন শেখ মেহেদির ক্যাচ। ৮ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা।

কাঁটা হয়ে ছিলেন কেবল দাসুন শানাকা। লঙ্কান অধিনায়ক খেলছিলেনও মারমুখী। অবশেষে শেখ মেহেদির করা ১৮তম ওভারে লংঅনে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন শানাকা (৩৩ বলে ৪৫)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *