ব্রেকিংঃ অবশেষে শ্রীলঙ্কার কাছে পাকিস্তানের এমন হারের আসল রহস্য ফাঁস !

এশিয়া কাপের ফাইনালে ফেবারিট হয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেছে পাকিস্তান। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) শ্রীলঙ্কার দেয়া ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে হার মানে বাবর আজমের দল।

দুবাইয়ের মাঠে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতিখার আহমেদের মন্থর ব্যাটিংকে পাকিস্তানের হারের কারণ হিসেবে অনেকেই দায়ী করছেন। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ব্যাটিং

মেরুদণ্ড বাবর আজম নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তবে তার ওপেনিং পার্টনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ব্যাট হাতে রাঙিয়েছেন টুর্নামেন্ট। ৬ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৮১ রান। সর্বোচ্চ ৭৮। হয়েছেন

আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পাকিস্তানকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসতে তার রয়েছে বড় ভূমিকা। তবে একই সঙ্গে সমালোচনার তীরেও বিদ্ধ হচ্ছেন টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটার রিজওয়ান।

ব্যাট হাতে তার স্ট্রাইকরেটের কারণে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে ফাইনালে ইফতিখার আহমেদের সঙ্গে তার মন্থর গতির ব্যাটিং রান তাড়ায় পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে মত

অনেকের। ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩.৩ ওভারে ২২ রান তুলতেই পাকিস্তান হারায় দুই উইকেট। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিজওয়ান-ইফতিখার। তবে

এই জুটি গড়তে তারা খরচ করেন ৫৯ বল! এ সময়ে হুহু করে বেড়েছে আসকিং রানরেট। উইকেটে সেট হয়ে রানের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনাকে দুষছেন পাকিস্তান সমর্থকদের। দলের এই

পরিকল্পনা তাদের ডুবিয়েছে। ৩২ রান করতে ইফতিখার খরচ করেন ৩১ বল! অপরপ্রান্তে বলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি রিজওয়ানও। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ নেওয়াজ যখন বিদায়

নেন তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ মাত্র ১০২ রান। জয়ের জন্য শেষ ২৮ বলে পাকিস্তানের দরকার ৬৯ রান! এই চাপ আর সামলে উঠতে পারেনি তারা। অথচ, আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরুতেই

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রানরেটে ভাটা পড়তে দেয়নি কখনোই। যে কারণে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারালেও শ্রীলঙ্কা রান তুলেছিল ৪২। অন্যদিকে পাওয়ারপ্লেতে এক

উইকেট কম হারানো পাকিস্তান তোলে মোটে ৩৭ রান। শ্রীলঙ্কার ইনিংস ১০০ রানে পৌঁছে ১৩.১ ওভারে। অন্যদিকে পাকিস্তান রান তাড়া করতে নেমে শতরানে পৌঁছে ১৪.২ ওভারে। অর্থ্যাৎ ১০০ রান

তুলতে পাকিস্তানকে ৭ বল বেশি খরচ করতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে এদিন সবশেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন ওয়ান্নিদু হাসারাঙ্গা। ১৪.৫ ওভারে তিনি যখন আউট হন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ তখন ১১৬ রান।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট হিসেবে যখন রিজওয়ান প্যাভিলিয়নে ফেরেন তখন চলে সতেরোতম ওভারের খেলা। সে সময়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৬.১ ওভারে ১১০ রান। ৮ বল বেশি খেলেও

পাকিস্তান পিছিয়ে ৬ রানে! রান তাড়া করতে নেমে রিজওয়ান অর্ধশতক পূর্ণ করতে খেলেন ৪৭ বল। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৫৫ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। ততক্ষণে আসকিং রানরেট ছুঁয়েছে আকাশ।

যার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে চাপে পড়েছে পরের দিকের ব্যাটাররা। এর ফল হিসেবে রিজওয়ানের বিদায়ের পর ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। ৫ উইকেটে ১১০ থেকে ১৪৭ রান অর্থ্যাৎ ৩৭ রান

তুলতেই বাকি ৫ উইকেট হারায় তারা। এদিকে রিজওয়ানের মন্থর ব্যাটিং নিয়ে ফের নিজের উষ্মা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে ২০ ওভার

ব্যাট করতে হয়। হাতে ১০ উইকেট থাকে। তা হলে কেন এক জনকে শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। ভারত, শ্রীলঙ্কাকে দেখুন। ওদের সবাই প্রথম বল থেকে মেরে খেলার চেষ্টা করে। কেউ একজন বড় রান

করলেই দলের রান বাড়বে। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটাররা ৫০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করে। তাতে কোনও লাভ হয় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *