ব্রেকিং নিউজঃ ক্রিকেটে আসছে আরও এক কঠোর নিয়ম,দেখে নিন

২৭ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এবারের এশিয়া কাল। আসরের দুতিয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। এই ম্যাচে বহুল আলোচিত বিষয় ছিল শেষ তিন ওভারে বৃত্তের বাইরে একজন কম ফিল্ডার থাকার ঘটনা। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ কারণেই কপাল পুড়েছে পাকিস্তানের, বৃত্তের বাইরে ফিল্ডার কম থাকায় সুবিধা হয়েছে ভারতের।

তবে এর পেছনে দায় ছিল পুরোপুরি পাকিস্তানেরই। কেননা তারা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নিজেদের ইনিংসের বোলিং শেষ করতে পারেনি। তাই জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আইসিসির নতুন নিয়মে শেষ তিন ওভারে বৃত্তের বাইরে একজন ফিল্ডার কম পেয়েছে তারা।

সেই ম্যাচে একই নিয়মের সাজা পেয়েছে ভারতও। তারা শেষ দুই ওভারে বৃত্তের বাইরে একজন ফিল্ডার কম রাখতে পেরেছে। একইভাবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নিজেদের শেষ ওভারটি করতে হয়েছে বৃত্তের বাইরে একজন কম অর্থাৎ চারজন ফিল্ডার নিয়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই নিয়ম। মূলত খেলার সময় অপচয়ের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক রাখার জন্য এ নিয়ম চালু করেছে আইসিসি। তবে এখানেই থামছে না তারা। ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এমসিসি এবার আরও কঠোর নিয়মের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।

এমসিসির বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির নতুন প্রস্তাবনায় ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম, স্লো ওভার রেট, মাঠে পানি পানসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে সময় বাঁচানোর তাগাদা দিয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে ফিল্ডিংয়ে থাকা দলকে পেনাল্টির আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

গত জুনে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কীভাবে অনেক সময় অপচয় তা গবেষণা করে এসব প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসি। মূলত টেস্ট ক্রিকেটের ওপর জোর দিয়েই এসব নিয়ম প্রয়োগের কথা বলেছেন বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্যরা।

ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম তথা ডিআরএসের ক্ষেত্রে সময় বাঁচানোর জন্য খেলোয়াড়দের শুধু শুধু সময় অপচয় না করার পরামর্শ দেওয়ার কথা বলেছে এমসিসি। এছাড়া রিভিউ প্রক্রিয়া চলার সময় আম্পায়ারকে অপ্রয়োজনীয় স্টেপ বাদ দিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষ করে মাঠের আম্পায়ার যখন নট আউট দেবেন বা সফট সিগনাল যখন নট আউট থাকবে, তখন রিভিউ প্রক্রিয়া চলার সময় দুই ব্যাটার ও ফিল্ডিং দলের সবাইকে তৈরি থাকার কথা বলা হয়েছে। যাতে করে সিদ্ধান্ত জানার পরপরই খেলা শুরু করা যায়। তবে রিভিউ করে আউট পেলে তখন উদযাপনের সময় পাওয়া যাবে।

আম্পায়ারদের ক্ষেত্রে রিভিউ দেখার সময় টিভি প্রোডাকশন যখন নিশ্চিত হয়ে যাবে নট আউট, তখন স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল বাদ দেওয়ার কথা বলছে এমসিসি। উদাহরণস্বরুপ প্রায়ই দেখা যায় লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তে এজ হয়েছে কি না তা দেখতে অনেক সময় চলে যায়।

কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই ডেলিভারিটি আসলে স্ট্যাম্পে লাগতোই না। ফলে এজ দেখার সময়টা পুরোপুরি অপচয়ের কাতারে চলে যায়। তাই টিভি প্রোডাকশন যখন বুঝতে পারবে এটি স্ট্যাম্পে লাগবে না, তখন আম্পায়ারকে জানিয়ে দেবে এবং তৎক্ষণাৎ নট আউট সিদ্ধান্ত স্ক্রিনে দেওয়া হবে।

রিভিউয়ের পর ফিল্ডিং দলের সময় অপচয়ের জন্য পেনাল্টির প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসি। ক্রিকেটের বর্তমান আইনের ৪১.৯ ও ৪১.১০ এর অনুচ্ছেদে বলা আছে, সময় অপচয়ের জন্য আম্পায়াররা দুই দলকেই প্রথমে আনুষ্ঠানিক ওয়ার্নিং দেবেন।

পরে একই ভুল আবার করলে পাঁচ রান করে পেনাল্টির শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়মের কঠোর বাস্তবায়ন চায় এমসিসি। এমনকি আম্পায়ার যদি মনে করে কোনো ওভারে বেশিই সময় অপচয় হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সেই বোলারকে ঐ ইনিংসে আর বোলিং করতে না দেওয়ার শাস্তিও দিতে পারেন আম্পায়াররা।

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড সিরিজে এমসিসির ক্রিকেট কমিটির সদস্যরা দেখেছেন আগের ওভারে যাই হোক না কেন, উইকেট পড়া মাত্রই পানি নিয়ে মাঠে ঢোকেন দুই দলের একাদশের বাইরের খেলোয়াড়রা। এ সময় বাঁচানোর জন্যও এসেছে নতুন প্রস্তাবনা।

এমসিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, খেলার গতির সঙ্গে যে পানি পানের বিরতি আসছে সেগুলোতেই যেনো পানি পানের চাহিদা পূরণ করে নেওয়া হয়। যদি নির্ধারিত বিরতির ১৫ মিনিটের মধ্যে উইকেট পড়ে বা রিভিউ নেওয়া হয়, তাহলে আর বিরতির অপেক্ষা না করে তখনই পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমসিসির গবেষণায় এসেছে একটি টেস্ট ম্যাচে প্রতিদিন প্রান্ত বদলের জন্য লেগে যায় ২০ মিনিট, রিভিউয়ে জন্য যায় ৪ মিনিট, বল পরীক্ষা বা বদলাতে যায় ৩ মিনিট, আড়াই মিনিট যায় গ্লাভস, ব্যাট বা অন্য কিছু বদলানোর জন্য এবং সাইটস্ক্রিন পরীক্ষার জন্য যায় আরও ২ মিনিট।

এই গবেষণায় এসেছে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটে প্রান্ত বদলের জন্য প্রায় ১০-১৫ সেকেন্ড বেশি লেগে যায়। কাউন্টিতে যেখানে গড়ে ৪৫ সেকেন্ডে লাগে, সেখানে টেস্ট ক্রিকেটে কমপক্ষে ৫৫ সেকেন্ড লেগে যায় নতুন ওভার শুরু করতে।

এমসিসি আরও জানিয়েছে, পুরো সিরিজে ৬৪ মিনিট হারিয়ে গেছে রিভিউ নেওয়ার ঘটনায়। একেকটি নট আউটের রিভিউ নেওয়ার পর পরের বল করার জন প্রস্তুত হতে গড়ে ২৫ সেকেন্ড করে সময় লেগে যায় ফিল্ডিং দলের। এটি কমিয়ে আনার দিকেও জোর দিতে বলা হয়েছে।

মাইক গ্যাটিংয়ের সভাপতিত্বে এসব নিয়মের প্রস্তাব দেওয়ার কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেমি কক্স, সুজি বেটস, অ্যালিস্টার কুক, কুমার ধর্মসেনা, সৌরভ গাঙ্গুলি, টিম মে, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, রমিজ রাজা, কুমার ধর্মসেনা, ভিন্স ফন ডার বিল ও রিকি স্কেরিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *