আপনি যেভাবে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে নেক আমল করতে পারবেন ! - সোনার-বাংলা

আপনি যেভাবে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে নেক আমল করতে পারবেন !

সোনার বাংলাঃ আপনি যেভাবে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে নেক আমল করতে পারবেন !

স্মার্টফোন ভালো না মন্দ। ব্যবহার না অপব্যবহার বেশি হচ্ছে। প্রয়োজন না অপ্রয়োজনে ব্যবহার বেশি হচ্ছে। উপকার হচ্ছে বেশি, নাকি ক্ষতি হচ্ছে। এ রকম কত প্রশ্ন। কত কথা। অথচ স্মার্টফোন ছাড়া থাকা ভাবা যায়? পড়াশোনা, বেচাকেনা, টাকা পাঠানো, ইউটিউবে মূল্যবান টিউটোরিয়াল দেখা। কি না হচ্ছে মাত্র ছয় কিংবা ইঞ্চির স্মার্টফোনে। সবই হচ্ছে। প্রযুক্তির সময় এখন। একে গ্রহণ না করে থাকার উপায় নেই। প্রয়োজনে সীমিত আকারে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হবে। যত্রতত্র যখন তখন নয়। স্মার্ট ফোন কল্যাণকর। যদি না এটাকে নেক আমলের কাজে ব্যবহার করা হয়। মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয়। আল্লাহকে খুশি করার কাজে লাগানো হয়। কোরআন তেলওয়াত : আপনি কোথাও যাচ্ছেন। ৩০ পারা কোরআন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। স্মার্টফোনে কোরআন ডাউনলোড করা। দেখেই পড়ে নিতে পারেন। গোসল ফরজ হয়নি। এমন অবস্থায় মোবাইলে কোরআন মোবাইলে দেখে পড়া যায়। যাত্রাপথে এদিক সেদিক চোখ যায়। চোখকে কোরআনের উপর রাখতে পারেন।

কোরআন তেলওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরগুলো শান্তি পায়। (সুরা আর-রা’দ : ২৮)। আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তেলাওয়াত করল তার বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বদলা হবে ১০ গুণ, একথা বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম, একটি অক্ষর বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মীম একটি অক্ষর। (সুনান আত তিরমিজি : ২৯১০)। কোরআন অ্যাপস দিয়ে পড়লে নেট খরচ হয়। তাই পিডিএফ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। পিডিএফ পড়লে নেট খরচ হবে না। কোরআন ছাড়া অন্য দোয়া দরুদ সবই স্মার্টফোনে পড়া সম্ভব। আজকাল মসজিদের খতিব মহোদয়রা স্মার্টফোন, ট্যাব দেখে ওয়াজ করে থাকেন। স্মার্টফোনে তারা নোট করে নিয়ে আসেন। দেখুন না! স্মার্টফোনের কতই না সুন্দর ব্যবহার। দান খয়রাত : দান করতে এখন আর মসজিদে, মাদ্রাসায়, এতিমখানায় যেতেই হবে। ব্যাপারটা

একদমই এমন নয়। স্মার্টফোনে বিকাশ, রকেট অ্যাপস ডাউনলোড করা আছে। তাহলে আর চিন্তা কি। অ্যাপস ব্যবহার করে টাকা পাঠানো যাবে খুব কম সময়ে। এমনিতেই করোনাকাল। দূরে যাতায়াতে ও ঝুঁকি আছে। দান খয়রাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা দান প্রকাশ্যে করো তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য শ্রেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের মন্দগুলো মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা অবগত আছেন।’ (সুরা-২ বাকারা : ২৭১)। সামাজিক যোগাযোগ : স্মার্টফোন যোগাযোগমাধ্যম। ফিচার ফোনে ফোন করতে পারবেন। যার কাছে ফোন করবেন। মন চাইলে তার সুন্দর ছবি, ভিডিও দেখতে পারবেন না। যেটা স্মার্টফোনে পারবেন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীর খোঁজখবর স্মার্টফোনে নিতে পারেন। এ জন্য ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। শুধু ইন্টারনেট খরচ হবে। বৃদ্ধ মা-বাবা বাড়িতে। প্রিয়তমা স্ত্রী, সন্তান বাসায় নেই। ভিডিও কল দিয়ে তাদের দেখতে পারেন। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উত্তম কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিছু মানুষকে আল্লাহ তায়ালা দীর্ঘ জীবন দান করেন, তাদের ধন-সম্পদে প্রাচুর্য দান করেন এবং সৃষ্টির পর কখনও তিনি তাদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে তাকাননি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এটা কীভাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, কারণ তারা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে। (তাবারানি)। তিনি আরও বলেছেন, প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে আল্লাহ তায়ালার কাছে মানুষের আমলনামা উপস্থাপন করা হয়; কিন্তু যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখে না,

তাদের আমল ফিরিয়ে দেওয়া হয়। (বোখারি : ৫৯৮৬)। ব্যবসা-বাণিজ্য : বেকারদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবসার মাধ্যম হতে পারে। হতে পারে আয়ের উৎস। রিচার্জ, কার্ড বিক্রি, টাকা পাঠানো, বিভিন্ন রকমের বিল পরিশোধের মাধ্যম স্মার্টফোন। এ সব কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। স্মার্টফোনের মাধ্যমে হালার রিজিকের ব্যবস্থা হতে পারে। ফরজ আদায়ের পর হালাল উপার্জনও একটি ফরজ (বায়হাকি; ৮৪৮২)। তাছাড়াও সততা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়পরায়ণতা, ধোঁকামুক্ত, কল্যাণমুখী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের প্রশংসায় রাসুলের (সা.) রয়েছে ঐতিহাসিক ঘোষণা : সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী (পরকালে) নবী, সত্যবাদী ও আল্লাহর পথে জীবন বিসর্জনকারী (শহীদের) সঙ্গী হবে (তিরমিজি :১২০৯)। আল্লাহ বলেন, আমি যে রিজিক তোমাদের দিয়েছি তা থেকে পবিত্রগুলো আহার করো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। ‘তোমাদের উপার্জিত পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো।’ (সুরা বাকারা : ২৬৭)। অ্যাপস : স্মার্টফোনে প্রয়োজনীয় অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে পারেন। দরকার পড়লে দেখে নিতে পারবেন। ইউটিউবে আলেম ওলামাদের ওয়াজ, ইসলামি নিদর্শনের ভিডিও দেখতে পারবেন। ফেইসবুকের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। এ সব সুবিধা আপনার চলার পথকে সমৃদ্ধ করবে। অপব্যবহার : যতটুকু না ভালো ব্যবহার হয়। তার চাইতে স্মার্টফোন অপব্যবহার হয় বেশি। খারাপ

, গোনাহের কাজে এটিকে মানুষ বেশি ব্যবহার করে। যা চোখে দেখা হারাম। তা স্মার্টফোনেও দেখা হারাম। স্মার্টফোন ব্যবহার করে এমন ছবি, বার্তা পাঠালেন। যা মানুষকে খারাপ কাজে উদ্ধুদ্ব করে। তাহলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে, সে ওই লোকের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গোনাহের কাজের দাওয়াত দেবে, সে ওই লোকেদর সমপরিমাণ গোনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গোনাহের কাজ করবে অথচ তাদের গোনাহ হ্রাস পাবে না। (মুসলিম : ৬৯৮০)। সারাক্ষণ স্মার্টফোন নিয়ে পড়ে থাকেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসে সময়ের অপচয় করেন। চোখের জেনা তো হয়ই। আবার যা তা লাইক শেয়ার করেন। ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেন। সময়ের এ রকম অপব্যবহার কল্যাণ বয়ে আনে না। কারণ সময় কিভাবে ব্যয় করলেন, তার হিসাব আল্লাহপাককে দিতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, কেয়ামতের দিন আদম সন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও নিজ স্থান থেকে নড়তে দেওয়া হবে না। ১. তার জীবনকাল কিভাবে

অতিবাহিত করেছে, ২. যৌবনের সময়টা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৩. ধন-সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছে, ৪. তা কীভাবে ব্যয় করেছে, ৫. সে দ্বীনের যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে, সে অনুযায়ী আমল করেছে কি না। (তিরমিজি : ২৪১৬)। অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, এমন দুটি নেয়ামত আছে, যে নেয়ামতের বিষয়ে মানুষ ধোঁকার মধ্যে থাকে। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর। (বোখারি : ৬৪১২)। অবসর সময়টা বেহুদা কাজে স্মার্টফোনে নয়। আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করতে হবে। এটা অত্যন্ত কল্যাণকর। অবসর সময়ে আল্লাহর ইবাদতে কাটানো আল্লাহ পছন্দ করেন। প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা পাঁচটি জিনিসকে তার বিপরীত পাঁচটি জিনিসের আগে মূল্যায়ন করো ও তার সদ্ব্যবহার করো। তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, সচ্ছলতাকে দারিদ্র্যের আগে, অবসরকে ব্যস্ততার আগে, জীবনকে মৃত্যুর আগে। (বায়হাকি, শোআবুল ইমান : ১০২৪৮, মুসনাদে হাকিম : ৭৮৪৬, আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, ৪:২০৩, আলবানি)। লেখক : ইসলামী গবেষক, সম্পাদক- মাহে রমজানের ডাক

You might also like